আসানসোলের রূপনারায়নপুর এর সালানপুর ব্লকের একমাত্র একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে প্রায় ছোট ছোট শিশুদের বিনামূল্যে পড়াশোনার পাশাপাশি ইফ মিল খাওয়ানো ব্যাবস্থা রয়েছে আর সেই প্রতিষ্ঠানে দুর্গাপুর থেকে এসে হাজির হলেন দুর্গাপুর আনন্দমেলা সোসাইটির সদস্যরা।একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি সঙ্গী হয়েছিলাম তাদের । দুর্গাপুর আনন্দমেলা সোসাইটির সদস্যরা শনিবার সকালে সালানপুর ব্লকের পিস ওয়েলফেয়ার কার্যালয়ে পৌঁছে সকালের খাবার ও মধ্যাহ্ন ভোজনের ব্যবস্থা করা ছাড়াও বাচ্চাদের সাথে আলাপচারিতা সারেন একই সাথে এদিন সেই বাচ্চাদের প্রতিদিনের খাবার এর জন্যে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন যার মধ্যে প্রায় দুই কুইন্টাল আলু ২ কুইন্টাল চাল, পাঁচ কিলো মুসুরির ডাল, প্রায় কয়েক ডজন ডিম, সরিষার তেল বিস্কুট সহ বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দেন।তাছাড়া এই দিন দুর্গাপুর আনন্দমেলার সোসাইটির সদস্যরা । ছোট ছোট বাচ্চাদের সাথে দিনভর হৈহুল্লোড় করে কাটালেন ।সাথে নাচ ও গান গেয়ে শোনান বাচ্চারা। দুপুরের খাবার ওই বাচ্চাদের সাথেই মাটিতে বসে খান । এবং সব থেকে অপূর্ব লাগে এই সমস্ত ছোট ছোট বাচ্চা ছেলেমেয়েরা তারা যখন অপরাজিতা বলে একটি নাটক পরিবেশন করে কোন রকম রিহার্সাল ছাড়াই। এবং মন জয় করে নেয় সকলেরই । এই সমস্ত প্রতিভাবান কচিকাঁচা কিশোর কিশোরী এদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন সেই মানুষটি যেই মানুষটি শুধু দুর্গাপুর কেন যেখানেই যে থানাতেই গেছেন কিছু না কিছু একটা করার চেষ্টা করেছেন । বিশ্বকবি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ভালোবাসেন তার আদর্শে অনুপ্রাণিত একজন জাঁদরেল পুলিশ অফিসার। নাম মইনুল হক । একদিকে যেমন রবীন্দ্র সংগীত গাইতে ভালবাসেন অন্যদিকে সমাজের নোংরা জঞ্জাল দুষ্কৃতীদের উচিত শিক্ষা দিতে সিদ্ধ হস্ত ।তাকে দেখেছি তিনি সব সময় কিভাবে এলাকার মানুষের দারিদ্র দূরীকরণে সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তাদেরকে সংস্কৃতিমনস্ক করে তোলা তাদের পাশে থাকা দিন প্রতিদিন তাদের খবর নেওয়া বিপদে সবসময় পাশে থাকেন । রূপনারায়ণপুর ফাঁড়িতে পোস্টিং থাকার সময় তার কাছে আনন্দমেলার সদস্যরা এই সমস্ত বাচ্চাদের কথা শুনেছিল তাই হঠাৎ করেই পৌঁছে যাওয়া তাদের কে একটু আনন্দ দেওয়ার জন্য তাদের কথা শোনার জন্য তাদের পাশে থাকার জন্য ।আনন্দমেলা সমিতির সম্পাদিকা কাকলি মুখার্জি জানান তারা আজকে এই বাচ্চাদের কাছে আসতে পারে খুবই আনন্দিত।তারা যদি না আসতে পারতেন তাহলে খুবই মিস হত ।তবে পিস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন এর কর্নধার শুভদ্বীপ সেন প্রতিদিন এই ৫০ জন বাচ্চাদের খাবার তুলে দেন ।সেই মত তার কথার টানেই আজকে আমাদের ছুটে আসা
তাছাড়া আমাদের শ্রদ্ধেয় মইনুল হক বাবু তিনিও সর্বদা গরীব মানুষ ও বাচ্চাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন ।তিনি আমাদের এইখানকার ঠিকানা দেন তাই আরো আসার আগ্রহ বাড়ে সেই জন্যেই ছুটে আসা ।তবে এখানে এসে বাচ্চাদের যে পরিবেশ দেখলাম তা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম ।যেভাবে গ্রামের বাচ্চারা তাদের নিয়ম শৃঙ্খলা শিখে এখানে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে তাতে তারা একদিন বড় হয়ে উঠবে ।অব্যশই শুভদীপ সেন কে ধন্যবাদ দেন তিনি।
এবিষয়ে পিস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন এর কর্নধার শুভ দ্বীপ সেন জানান তাদের কার্যালয়ে যে আজকে আনন্দ মেলা সোসাইটির সম্পাদিকা সহ সকল সদস্যরা এসেছে তাতে সে খুবই আপ্লুত ।সে চায় তার এই পথ চলায় যেন এভাবেই মইনুল বাবুর মত সকলকে পাশে পায় ।
এদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আনন্দ উপভোগ করেন আনন্দমেলা সোসাইটির সম্পাদিকা কাকলি মুখার্জি ছাড়াও সোসাইটির সকল সদস্য বৃন্দ এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা সাংবাদিক বিশ্বদেব ভট্টাচার্য সাংবাদিক সঞ্জীব সুঁই শুভাশিষ ব্যানার্জি, অমল গড়াই,কাজল মিত্র সহ আরো অনেকে।
No comments:
Post a Comment