দুর্গাপুর আপডেট নিউজ ডেস্ক : গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল বাম আমলের 'কয়লা কারবারি রাজেশ ওরফে রাজু ঝাঁ'র। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিট নাগাদ কলকাতা যাওয়ার সময় শক্তিগড়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয় বলে জানা গিয়েছে। এক সময় কয়লার কালো কারবারের বেতাজ বাদশা হয়ে ওঠা রাজু তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই কয়লার কারবার বন্ধ করে দেয়। 3/7/2011 তাকে প্রথম রাণীগঞ্জে গ্রেপ্তার করা হয় এরপর থেকে বেশ কয়েকবার তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করা হয়। সংশোধনাগারেও গিয়েছে অনেকবার।
এদিন কলকাতা যাওয়ার সময় রাজুর সঙ্গী ছিল অণ্ডালের বাসিন্দা ব্রতীন মুখোপাধ্যায়। তাদের গাড়ি যখন শক্তিগড়ে একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল সেই সময় তাদের পাশে এসে দাঁড়ায় অন্য একটি নীল রংয়ের গাড়ি। সেখান থেকেই পরপর গুলি চালানো হয় রাজু ঝাঁকে লক্ষ্য করে। ব্রতীন বন্দ্যোপাধ্যায় গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে তাকেও গুলি করা হয়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় ব্রতীনকে উদ্ধার করে বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রাজু ঝাঁ-র । আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ব্রতীন বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম আমলে কয়লার কালো কারবারের সিন্ডিকেটের বেতাজ বাদশা হয়ে ওঠা রাজু ঝাঁ আর্থিক দিক থেকে ফুলে ফেঁপে ওঠে। পরিবহণ ব্যবসা থেকে হোটেল ব্যবসা সমস্ত কিছুই খুব অল্প সময়ের মধ্যে করে ফেলে রাজু ঝাঁ । দুর্গাপুর শহরে একাধিক যুবক যুবতীর কর্মসংস্থান হয় একথা ও অস্বীকার করার নয়। আসানসোল দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে তার অনেক সম্পত্তি রয়েছে। রয়েছে হোটেল রয়েছে আবাসন এবং দুর্গাপুরের বিধাননগরে তার নিজের বাড়ি রয়েছে। এক সময় পৃথিবী ট্রাভেলস নামে একটি পরিবহন সংস্থা ভলভো পরিষেবা কলকাতা শিলিগুড়ি বিভিন্ন জায়গায় যেত পরে সেটা বন্ধ হয়ে যায়। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরেই তাকে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার করা হয়।
এরপর রাজু ঝাঁ ২০২১ সালে মার্চ মাসে বিজেপি-র যোগদান মেলায় দুর্গাপুরের পলাশডিহা ময়দানে দিলীপ ঘোষ ও তখন বিজেপিতে থাকা অর্জুন সিং-দের হাত ধরে গেরুয়া শিবিরে যোগদান করে। তার সঙ্গে যোগদান করেন আরো কিছু বেআইনি কয়লা কারবারিরা। কয়লার মাফিয়াদের কেন বিজেপির যোগদান মেলায় দলে নেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে মঞ্চে নেতাদের সামনেই চেয়ার ভাঙচুর করে পুরনো বিজেপি সমর্থকেরা। ফলস্বরূপ এই বেআইনি কয়লা কারবারিকে গত বিধানসভায় নির্বাচনে বিজেপি-র প্রচারে বিভিন্ন জায়গায় দেখা গিয়েছিল। ভারতীয় জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় রাজ্য এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে রাজুকে বিজেপির বিভিন্ন অনুষ্ঠান মঞ্চেও দেখা গিয়েছে। অনেকে বলছেন কয়লা কারবার থেকে সরে আসতে চাইছিল রাজু তাই হোটেল ব্যবসা সহ নানান ব্যবসা শুরু করেছিল। সিটি সেন্টারে একটি তিনতারা হোটেল তারই বলে জানেন সকলে এবং সেখানে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং মন্ত্রীরা প্রায়শই আসেন বিভিন্ন মিটিং এবং অনুষ্ঠানের জন্য। বাবা বলে বেতার বেআইনি কয়েলের বাচ্চা রাজু ঝা তার বেশ কয়েকজন সাগরেদ নিয়ে যেভাবে সাম্রাজ্য চালাতেন সেই সমস্ত সাগরেদরা পরে একজন বড় বেআইনি কয়লা মাফিয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। এবং কালো সোনার জগতে সেই থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয় তৈরি হয় রাজু ঝা কে টক্কর দেওয়ার অন্যান্য বেআইনি কয়লা কারবার গোষ্ঠী।
মাত্র কয়েকদিন আগে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের অম্বুজা উপনগরীতে রাজুর একসময়ের এক বিশ্বস্ত সাগরেদের আত্মীয়র পরিবহণ কার্যালয়ে দু-রাউন্ড গুলি চালানো হয়। সেই ঘটনার পর শনিবার সূত্র মারফত পাওয়া খবর অনুযায়ী রাজু ঝাঁ তাঁর নিজস্ব গাড়ি করে কলকাতার উদ্দেশ্যে যখন যাচ্ছিলেন সেই সময় শক্তিগড়ে তাদের গাড়ির পাশে এসে অন্য একটি চারচাকা গাড়ি দাঁড়ায়। সেই গাড়ির ভিতরে থাকা দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালালে মৃত্যু হয় রাজুর। তবে কে বা কারা গুলি করল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে শক্তিগড় থানার পুলিশ।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন হটাৎ বাজি ফাটার মত শব্দ হয়।অনেকেই দোকান থেকে বেরিয়ে এসে দেখেন গাড়িতে এক ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
ব্যবসায়িক শত্রুতা নাকি রাজনৈতিক উদ্যেশ্যে তাকে খুন তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আসানসোল দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে এই নিয়ে সন্ধ্যে থেকেই গুঞ্জন সহ নানান আলোচনা শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুর্গাপুর শহর জুড়েও
No comments:
Post a Comment