বাড়ি থেকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়া, ঠান্ডা পানীয়র সঙ্গে মদ বা ঘুমের ওষুধ জাতীয় বা অন্য কিছু মিশিয়ে অচেতন করা, তারপর হোটেলের ঘরে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ। বুদবুদের এই নাবালিকাকে ঘিরে দুর্গাপুরে এই রোমহর্ষক ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিল্পাঞ্চল জুড়ে।
অভিযোগ, বুদবুদ থানা এলাকার অষ্টম শ্রেণির এক নাবালিকা ছাত্রীকে তারই পরিচিত এক তরুণী বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, এরপর একটি চারচাকা গাড়ির ভিতরে তাকে এমন কিছু নেশা জাতীয় বস্তু খাওয়ানো হয় ঠান্ডা পানীয়র সঙ্গে। নাবালিকা অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়তেই তাকে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের কবিগুরু এলাকার একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেখানে রাজ মল্লিক, শেখ আজারুদ্দিন-সহ আরো একজন মোট তিন যুবক মিলে নাবালিকার উপর পাশবিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ পরিবারের। ঘটনার পর অভিযুক্তরা ওই নাবালিকাকে বুদবুদ বাইপাস এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ এক টোটোচালক অসহায় অবস্থায় নাবালিকাকে দেখতে পেয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেন। এরপরই পরিবারের সদস্যরা পুরো বিষয়টি জানতে পারেন এবং দ্রুত দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ,
“বুদবুদ এলাকার সিমরান তামাং নামে এক তরুণী তার মেয়েকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর মদের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে তাকে বেহুঁশ করে দেয়। এরপর তিন যুবকের হাতে তুলে দেয়। হোটেলের ভিতরে নিয়ে গিয়ে তার মেয়েকে গণধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। আমরা দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।”
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে দুর্গাপুর থানার পুলিশ। রবিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে নির্যাতিতা দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে।৩জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপির তরফ থেকে ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিজেপির যুব নেতা পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় এবং নেত্রী মনীষা শিকদার দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
No comments:
Post a Comment