দুর্গাপুর আপডেট নিউজ ডেস্ক : গ্যাসের পাইপলাইন সংযোগের ক্ষেত্রে এগিয়ে গেল দুর্গাপুর। আজ বৃহষ্পতিবার সিটি সেন্টারের সেল কো-অপারেটিভ এ একটি বাড়িতে সংযোগ দিয়ে সূচনা হল ইন্ডিয়ান অয়েল-আদানী গ্যাসের। বাড়ী বাড়ী পাইপলাইনের মাধ্যমে পৌঁছে যাবে এই গ্যাস। উল্লেখ্য, দুর্গাপুর মহকুমার কাঁকসার গোপালপুর পঞ্চায়েতে রাজ্যে প্রথম এই গ্যাস বাড়ী বাড়ী সরবরাহ শুরু হয় এটা ছিল ট্রায়াল রান।
সম্পূর্ণ সফলতা পাওয়ার পরে এবং ক্রেতাদের চাহিদা মত এদিন সিটি সেন্টারের সেল কো-অপারেটিভে ৫৯ তারাশঙ্কর সরনীতে প্রথম পাইপ লাইন গ্যাসের শুভ সূচনা হয়। সূচনা করেন দুর্গাপুর ইস্পাতের আধিকারিক বি পি সিং। উত্তরপ্রদেশের জগদীশপুর থেকে হলদিয়া পর্যন্ত গ্যাসের পাইপলাইন পাতার কাজ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গেল ।
সেই পাইপলাইন থেকে বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি গ্যাস পৌঁছে দিতে 2018 সালে দরপত্র চায় কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। এ রাজ্যে দুই বর্ধমান জেলায় গ্যাস সরবরাহের জন্য যৌথভাবে বরাত পায় ইন্ডিয়ান অয়েল ও আদানি গোষ্ঠী । দুর্গাপুর মহকুমার পানাগড়ে সোর্স পয়েন্ট তৈরি করা হয়েছে, আর সেখান থেকেই পাইপ লাইন পাতা হচ্ছে পশ্চিম বর্ধমান জেলা জুড়ে সেই প্রকল্পের আওতায় দুর্গাপুর শহরে বাড়িতে পাইপ ন্যাচরেল গ্যাসের অর্থাৎ পিএনজি সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হল।
বছরখানেক আগে দুর্গাপুর লাগোয়া স্থানীয় গোপালপুরে এই কাজ শুরু হয়েছে বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার বাড়িতে রান্না হচ্ছে পিএনজি দিয়ে । এই যৌথ সংস্থার প্রকল্প প্রধান শুভজিৎ চক্রবর্তী জানান সংযোগ পেতে গ্রাহককে ৭১১৮ টাকা জমা দিতে হবে এর মধ্যে ৭ হাজার টাকা ফেরত যোগ্য। গ্রাহকদের একটি মিটার দেয়া হবে গ্যাস খরচের হিসাব মিলবে এই মিটারে সেই অনুযায়ী বিল দিতে হবে অনলাইনে। এলপিজি থেকে পিএনজি দামের প্রায় ১৫ শতাংশ সস্তা। এমনটাই দাবিদার শুভজিৎ বাবু জানান পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক দুই জেলায় আড়াই লক্ষ বাড়িতে সংযোগের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে ২০৩০ সালের মধ্যে । এবং পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের দুই জেলার ৩১টি ব্লকেই পৌঁছতে হবে তাদের এবং দুর্গাপুর শহরে 2025 সালের মার্চের মধ্যে কুড়ি হাজার সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে । দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা ডিরেক্টর বি পি সিংহ বলেন নানান বড় শহরে এমন গ্যাসের সংযোগ আমরা দেখেছি এবার দুর্গাপুরও শুরু হল মাঝে সামান্য বিলম্ব হয়েছে তবে দ্রুত কাজ এগোচ্ছে আশা করি গ্রাহকের ঘরে নতুন সংযোগ পৌঁছে যাবে তাড়াতাড়ি।
গ্যাস সিলিন্ডারের দিন শেষ গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য অপেক্ষাও শেষ এবার পাইপ লাইনের মাধ্যমে আপনার বাড়িতে গ্যাসে হবে রান্না, আবাসনে এবং হোটেলে। রাজ্যে প্রথম দুর্গাপুরে শুরু হলো এই কাজ। দেওয়া হল নতুন কানেকশন ইস্পাত নগরীতে। ইন্ডিয়ান অয়েল আদানি গ্যাসের মাধ্যমে শুরু হল এই কাজ ।দুর্গাপুরের প্রথম উপভোক্তা সুশান্ত কুমার রায় জানালেন যে সংস্থার কাজ দেখে নিরাপত্তার দিক দিয়ে অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছেন তিনি। পাইপ লাইনের মাধ্যমে এই গ্যাস অনেকটা সিএনজি গ্যাসের মত দুর্ঘটনার সম্ভাবনা নেই। সাধারণ গ্যাস সিলিন্ডারের থেকে অনেক কম খরচে মানুষ ব্যবহার করতে পারবেন এটা আর সবকিছুই হবে অনলাইনের মাধ্যমে ।লাগানো থাকবে মিটার যতটুকু গ্যাস আপনি খরচা করছেন ততটুকু মিটারের পয়সাই দিতে হবে অনেকটা ইলেকট্রিক বিল এর মত । রাজ্য প্রথম দুর্গাপুরে এটা শুরু হলেও আস্তে আস্তে ধীরে ধীরে বিভিন্ন জায়গায় রাজ্যজুড়ে এর ব্যবহার বাড়বে এমনটাই আশা ইন্ডিয়ান অয়েল আদানি গোষ্ঠীর।
নিরাপত্তার পাশাপাশি সাশ্রয় ও হবে, দাবী গ্যাস সংস্থার। সিলিন্ডারের এলপিজি হাওয়ার থেকে ভারী, কিন্তু এই প্রাকৃতিক গ্যাস হাওয়ার থেকে হাল্কা, ফলে লিক হলেও উড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা, জানাচ্ছেন শুভজিত চক্রবর্তী যিনি দুর্গাপুর শহরে এই কাজের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ।
একটা সময় ছিল যখন কোল গ্যাস পাইপ লাইনে মাধ্যমে ব্যবহার করে রান্নাবান্না সহ অন্যান্য জ্বালানির ক্ষেত্রে ব্যবহার হতো কোল গ্যাসের । সেটা প্রায় ৯০ দশকে এবং দুর্গাপুরের ডিপিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এই কোল গ্যাস পাইপ লাইনের মাধ্যমে যেত হাওড়া সহ কলকাতায় । এটা ছিল ডক্টর বিধান চন্দ্র রায়ের দূরদৃষ্টি ।শিল্পের জন্য শিল্প এই কনসেপ্ট নিয়েই তিনি এটা করেছিলেন কিন্তু আজ সেটা ইতিহাস। আবারও সেই কনসেপ্ট নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন ভাবনা চিন্তা ।
No comments:
Post a Comment