দুর্গাপুর আপডেট নিউজ ডেস্ক : দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে তীব্র গরমে শহরবাসীর জন্য মুখরোচক বিভিন্ন ধরনের পান্তা চাট এর সঙ্গে নানান রকম পান্তা ভাতের উৎসব। তীব্র গরমে রসনা তৃপ্তিতে জল ঢালা পান্তা ভাতের সঙ্গে ছাঁচি পেঁয়াজ, পোস্ত আর লঙ্কার জুড়ি মেলা ভার। বাংলার নিজস্ব এই খাবারের সম্ভার নিয়ে প্রথমবার দুর্গাপুরে আয়োজিত হল পান্তা উৎসব। পল্লব রঞ্জন নাগ মানেই নতুন কিছুর চিন্তাভাবনা। মাছে ভাতে বাঙালি উৎসবের পরে পান্তা উৎসবের ভাবনা পল্লব রঞ্জন নাগের। তার প্রিয় শিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী কিছুদিন আগে দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের এক অনুষ্ঠানে এসেছিলেন সেখানে তার সঙ্গে হোটেলে একান্ত আলাপচারিতায় পল্লব পান্তা উৎসবের ভাবনা এবং এই নিয়ে একথা জানিয়েছিলেন নচিকেতা কে। এর জন্য তাকে বাহবা দিয়েছিলেন নচিকেতা এত সুন্দর একটা ভাবনা ভাবার জন্য এবং বলেছিলেন অবশ্যই যেন এই উৎসবটা করা হয় শহরবাসীর জন্য । আরো একজন সাহস যুগিয়ে ছিল পল্লবকে তিনি দুর্গাপুরের প্রাক্তন মেয়র অপূর্ব মুখোপাধ্যায়। কিন্তু কে এই পল্লব রঞ্জন নাগ। তিনি দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর একজন প্রাক্তন কাউন্সিলর মন থেকে তৃণমূল দলটা বুক বাজিয়ে করেন এবং তৃণমূল সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নানান কাজের অনুপ্রেরণায় বাঙালির নানান খাবারকে উৎসবের আঙ্গিকে তুলে ধরতে চান শহর দুর্গাপুরের মানুষের জন্য।
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দুর্গাপুর আলো ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে ১৫ মে সোমবার দুপুরে এ-জোন রবীন্দ্র ভবনে আয়োজিত হল ‘বাংলার পান্তা’ উৎসব। নানান ধরনের হরেক রকমের পান্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে উৎসবে। জল ঢালা পান্তা ভাতের সঙ্গে ছাচি পেঁয়াজ আর লঙ্কা তো আছেই। এছাড়া থাকছে রকমারি গয়না বড়ি, আলু পোস্ত, পোস্ত বড়া, ঝিঙে পোস্ত, কুমড়োর ছক্কা, শুটকি মাছের টক, পোস্ত বাটা, সহ হরেক রকমের মুখরোচক খাবার। পান্তা খেতে ভিড় করেছিলেন শিল্পনগরীর বাসিন্দারা। উদ্যোক্তা পল্লব রঞ্জন নাগ জানান গরমে পান্তা ভাতের উৎসব এই প্রথম শহরবাসীকে স্বস্তি দিতে উদ্যোগী হয়েছেন তারা। এর জন্য খুশি শহরবাসী। এছাড়া এর আগে প্রতি বছরই তারা নিয়ম করে মাছে ভাতে বাঙালি বলে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন যেখানে এই গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন মাছ বিভিন্ন পদের রান্না সহ বিনা পয়সায় শহরবাসীকে খাওয়ানো হয় এবারে এ বছর থেকে প্রতি বছর তীব্র গরমে চলবে পান্তা উৎসব। দুর্গাপুরের পুর নিগমের প্রাক্তন মেয়র অপূর্ব মুখোপাধ্যায় জানান পল্লব সবসময় শহরবাসীর জন্য অভিনব নতুন কিছু করে থাকে এই পান্তা উৎসব ও শহরবাসীর মনে সাড়া জাগাবে। রীতিমতো কবজি ডুবিয়ে পান্তা খেলেন পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার সহ পাণ্ডবেশ্বর এর বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন দারুন উদ্যোগ আগামী বছর থেকে আরো বড় করে এই উৎসব পালন করার জন্য তিনি সাহায্য করবেন। নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন বেশ আয়েশ করে পান্তা ভাত খেলাম শুটকি মাছের সঙ্গে পান্তা আমার খুবই প্রিয় প্রচন্ড গরমে লু থেকে বাঁচায় পান্তা ভাত। ভুলতে বসেছি অনেকেই তবে নতুন করে তার উৎসব করে মানুষকে আবারও পান্তা ভাতের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তুলল এই সংস্থা।
No comments:
Post a Comment