পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম ভরত আকুরে, সুমন বাউরি, দীপক বাউরি, অমিত বাউরি, রাহুল বাউরি এবং শংকর আকুরে। তারা সকলেই বুদবুদের মানকরের বাসিন্দা। ধৃতদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর আক্রমণ এবং সরকারি কাজে বাধা দান সহ একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার রাতে। বুদবুদের মানকর গ্রামীণ হাসপাতালে মানকরের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী বুধন বাউরিকে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসার গাফিলতিতে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।
রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতালে চত্বরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিযোগ, আচমকাই সেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয়। হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। তাণ্ডব চলাকালীন বাদ পড়েননি কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও।তাদের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার খবর পেয়েই বুদবুদ থানার পুলিশ দ্রুত পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতালের তরফ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর তদন্তে নামে বুদবুদ থানার পুলিশ। শুক্রবার রাতের সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই ছয়জনকে সনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, রাজ্যে কোনো ধরনের গুন্ডামি বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বরদাস্ত করা হবে না। স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল—চিকিৎসা বা হাসপাতালের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা নির্দিষ্ট প্রশাসনিক মঞ্চে জানাতে হবে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই হাসপাতালে ভাঙচুর বা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা সহ্য করা হবে না।এমনটা ঘটলে প্রশাসন কঠোরতম ব্যবস্থা নেবে।
No comments:
Post a Comment