দুর্গাপুজোর আয়োজন এবং পুজোর দখল কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থেকে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিরোধী দল তৃণমূল ও শাসক দল বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে কাঁকসার বিদবিহারের দুবরাজপুর কলোনি এলাকায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়।পরিস্থিতি এতটাই লাগামছাড়া আকার নেয় যে, তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের উপপ্রধানকে লক্ষ্য করে চলে ডিমবৃষ্টি। পাল্টা বিজেপির মণ্ডল সভাপতিকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। এখানেই শেষ নয়, এরপর তৃণমূল উপপ্রধানের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে পদ্মশিবিরের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁকসা থানার অন্তর্গত মলানদিঘী ফাঁড়ির পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সন্ধ্যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার বহু পুরোনো দুর্গাপুজো পরিচালনা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই চাপা ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি শচীন বিশ্বাসের অভিযোগ, "দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজোর পুরনো কমিটিতে এলাকার নতুন কিছু তরুণকে অন্তর্ভুক্ত করার সাধারণ দাবি জানানো হয়েছিল। পুজো সর্বজনীন, তাই সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি। কিন্তু এই যুক্তিসঙ্গত দাবি তুলতেই পুরনো কমিটির সঙ্গে বিরোধ বাঁধায় তৃণমূল।" শচীনবাবুর আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, নতুন ছেলেদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানাতেই পুরনো কমিটির সদস্যরা তৃণমূলের উপপ্রধান গোপাল সরকারকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে অমানুষিক মারধর করে। এমনকি প্রতিবাদ রুখতে মহিলাদের সামনে এগিয়ে দিয়ে ঢাল করার চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এলাকায় দফায় দফায় পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। তবে বিজেপির যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের পরিবারের পাল্টা অভিযোগ, বিজেপির লোকজন সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তাঁদের ওপর চড়াও হয়েছে। তাঁদের পরিবারের নিরপরাধ ছেলেদের ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। অবিলম্বে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার জবাব ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
খবর পেয়ে কাঁকসা থানার পুলিশ ও মলানদিঘী ফাঁড়ির বিপুল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ঘিরেও চলে চরম বিক্ষোভ। সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে চরম হিমশিম খেতে হয় পুলিশ প্রশাসনকে। বর্তমানে গ্রামে থমথমে পরিবেশ বজায় থাকায় পুনরায় ঝামেলা এড়াতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখে পুলিশ।
No comments:
Post a Comment